দ্যা হিস্ট অর্থ কুয়াশা
ছবির শুরুতে দেখা যায়, ছবির মূল চরিত্র ডেভিড একটি মুভির পোস্টার আর্ট করতে ছিল। বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিলো সাথে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। হঠাৎ করে জোরে এক বজ্রপাতে ডেভিডের বাড়ির কারেন্ট বা ইলেকট্রিসিটি চলে যায়।
তারপরের দৃশ্যে দেখা যায়, ডেভিড তার স্ত্রী এবং তার ছোট ছেলেকে নিয়ে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি আর বিদ্যুৎ চমকানো দেখছে। হঠাৎ খুব জোরে ঝড় হওয়ায় একটি গাছ ভেঙে ডেভিডের জানালা দিয়ে তার ছবিটির উপর পড়ে।
সকাল হলে ডেভিড দেখতে পায় বড় একটি গাছ তার ঘরের জানালা উপর ভেঙে পড়েছে। এরপরে ডেভিডের ছেলে তাকে দেখায় তাদের মাছ ধরার ছোট ঘরের উপর তার প্রতিবেশী একটি গাছ ভেঙে পড়েছে।
আর তখনই ডেভিডের স্ত্রী খেয়াল করে প্রচুর কুয়াশা তাদের সামনে ছড়িয়ে পড়ছে ডেবিট তাতে পাত্তা দেয় না। ডেভিড প্রতিবেশীর কাছে অভিযোগয় নিয়ে গেলে সে তাকে আশ্বাস দেয় যে তার ক্ষতিপূরণ দেবে।
এরপর প্রতিবেশী তাকে বলে আমার একটু শহরে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে আমার গাড়ি নষ্ট হওয়ায় তোমার সাথে নিয়ে চলো। ডেভিড তার ছেলে এবং তার প্রতিবেশী কে নিয়ে শহরে দিকে রওনা হয়।
রানা হতে হতে তারা খেয়াল করে তাদের সামনে দিয়ে কয়েকটি সেনাবাহিনীর গাড়ি খুব দ্রুত বেগে ছুটছে। ডেভিড তাতে খুব একটা পাত্তা দেয় না।
এরপরে ডেভিড গাড়ি থেকে নেমে সুপারশপের দিকে রওনা হয়। ডেবিড সুপারশপে ঢোকা মাত্রই কয়েকটি পুলিশের গাড়ির সাইরেনের শব্দ পায়।
আর তখনই জোরে জোরে সারা শহরে সাইরেনের শব্দ পাওয়া যায়। সুপারশপে থাকা সকল মানুষ আতঙ্কিত হয়ে যায়। তারা বুঝতে পারে না যে কি হচ্ছে বা কি হতে যাচ্ছে।
ঠিক তখনই বৃদ্ধ একটা লোক নাকে মুখে রক্ত মাখা অবস্থায় সুপারশপে প্রবেশ করে। বৃদ্ধ লোকটি বলতে থাকে যে তার একটি লোককে কুয়াশার মধ্যে থেকে একজন এসে তুলে নিয়ে গেছে।
সুপার শপে থাকা সবাই অবাক হয়ে বৃদ্ধ লোকটির দিকে তাকিয়ে থাকে এবং তাকে শান্ত হতে বলেন। ঠিক তখনই পুরো সুপারশপের চারদিকের পুরো এলাকা জুড়ে কুয়াশায় ছেয়ে যায়।
তখনই সুপারশপে থাকা একটি লোক সুপার শপ থেকে বেরিয়ে তার গাড়ির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে এমন সময়ে কুয়াশার মধ্যে থেকে কিছু একটা এসে তাকে টেনে হিঁচড়ে কুয়াশার মধ্যে নিয়ে যায়। সুপারশপে থাকা সবাই এই দৃশ্য দেখা মাত্রই ভয়ে অবাক হয়ে যায়।
চারদিকে কুয়াশার সাথে সাথে পুরো সুপারশপ তখন ভুমিকম্পে কেঁপে ওঠে। ভয় পেয়ে সুপারশপে থাকা সবাই মিলে সুপারশপের সবগুলো দরজা লক করে দেয়।
এরপরে ডেবিট তার ছেলেকে এক জায়গায় বসিয়ে সুপারশপের জেনারেটর কাছে যায়। ডেভিড জেনারেটর বন্ধ করার জন্য সুপার শপের এক কক্ষে প্রবেশ করার পর যখন, সুপারশপের জেনারেটর বন্ধ করে।
তখন ডেভিড আঁধারের মধ্যে দেখতে পায় সুপার সপের একটি সাঁটারে প্রচন্ড শব্দ হচ্ছে। সাথে ডেভিড আজব একটি প্রাণীর এর শব্দ শুনতে পায়। খুব জোরে জোরে কে যেন সুপারশপের সাটার (দরজা) ধাক্কা ও আজব একটা শব্দে তেভিড ভয় পেয়ে যায়।
সে ফিরে এসে সুপারশপে থাকা কয়েকজন কে জানালে সবাই তাকে নিয়ে উপহাস করতে থাকে। কেউই ডেভিডের কথাটি বিশ্বাস করতে চায় না। ডেভিড ঐ কয়েকজন কে নিয়ে যায় ওই সাটারের ধাক্কা ও আজব প্রাণীর কোন অচেনা শব্দ শোনাতে।
তখনও ঐ লোকেরা তাকে বোঝায় যে, যেখানে কোন শব্দ হয়নি বা কিছুই নেই। তখন তাদের মধ্যে থাকা কয়েকজন মিলে সাটারটি খুলে বাইরে যেতে চায় কি আছে তা দেখতে চায়। তাতে ডেভিড বাধা দিলেও তারা তা মানতে চায় না।
তারা কয়েকজন মিলে জোর করে ইলেকট্রিক সারাটি অর্ধেক হলে অর্ধেক খোলা মাত্রই শাটারের সামনে থাকা এক যুবককে আজব এক দানব এসে ঐ ছেলেটাকে টেনে নিয়ে যায়।
এসব দৃশ্য দেখার পর ডেবিট এর সাথে থাকা লোকজন বিশ্বাস করে শুরু করা যায় বাইরে কুয়াশার সাথে কিছু একটা রয়েছে।
ঐ কয়েকজন কে নিয়ে ডেবিট সুপারশপে থাকা বাকি লোকদের জানায় যে কুয়াশার ভিতরে কিছু একটা টয়েছে। সেটা ভয়ঙ্কর কিছু। ঐ কয়েকজনসহ ডেবিট কেও তারা বিশ্বাস করতে চায় না।
ডেভিড ও তার সহযোগীরা তাদের দেখানোর জন্য ওই কক্ষে নিয়ে গেলে রক্ত দেখায় এবং দানবের এর একটি কাটা অংশ দেখালেও তারা বিশ্বাস করে না।
এমন সময় ডেভিডের প্রতিবেশী কয়েকজনকে তার পক্ষে নিয়ে বাইরে প্রবেশ করলে তাদের সবাই মারা যায়।
আর ঐ প্রতিবেশীর অর্ধেক পা থেকে কোমর পযন্ত ডেভিড দরি দিয়ে টেনে আনে। এখন সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করে যে বাইরে আসলে কিছু একটা হচ্ছে। আর এই ভয় কে পুঁজি করে ইহুদি এক নারী।
ঐ ইহুদি নারী পুয়ের্তো রিকোর বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ফিদেল কাস্ত্রোর মত জাল্বাময়ি ভাষন দিয়ে ডেভিড ও তার সহযোগীদের এই পরিস্থিতির দায় ভার বা দোষ দিয়ে থাকে।
তো ডেভিড তাড়াতাড়ি সবাইকে নিয়প সুপারশপের কাচের বেড়া গুলোকে রক্ষা করার জন্য খাবার দিয়ে প্রাচীর তৈরি করে। ঐ ইহুদি নারী জাল্বাময়ি ভাষন দিয়ে বলে আজ রাতে তাদের উপর হামলা করবে সয়তান।
তো সত্যি সত্যি রাতে লাইট জালানোর কারনে বড় বড় পোকা লাইটের দিকে আকর্ষিত হয়। বড় বড় পোকাগুলো কাচের উপর থাকায় আরো বড় দৈত্য ঐ পোকাগুলো খাওয়ার জন্য কাচের উপর কাচের পড়ে।
এক সময় কাচ ভেঙে গেলে পোকা গুলো ভেতরে প্রবেশ করে সাথে বড় দানব বাদুর গুলোও ভেতরে ঢুকে সবাই কে আক্রমণ করে। এতে অনেকে মারা যায় আর অনেকে আক্রান্ত হয়। ডেভিড আক্রান্তদের জন্য পাশে থাকা ফার্মেসি তে যেতে চায়।
ডেভিড আক্রান্তদের চিকিৎসা করার জন্য ডেভিড ও কয়েকজন মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে পাশের একটি ফার্মেসি থেকে তারা ওষুধ আনবে
ডেভিড ওষুদ আনতে গিয়ে দানব ভয়ংকর পোকার আক্রমনে পরে। এভাবে ওষুধ আনতে গিয়ে আরো কয়েকজনকে হারায়। এরমধ্যে সুপারশপে থাকা একজন ইহুদী মহিলা তাদের সবাইকে বোঝাতে থাকে যে পাপীরা নরকে যাবে।
যারা পাপ করছে তাদের জন্য গড এসব পোকা প্রেরন করেছে। সবাই ইহুদি মহিলার পক্ষে চলে যায়।
এমন সময় ডেভিড সুপারশপে থাকা একজন সেনাবাহিনীর গবেষণা করার জায়গায় পাহারা দেওয়া গার্ড কে ধরে। সে বলে যে সেনাবাহিনীর সাইন্টিস্টরা সেখানে অন্য দুনিয়ায় প্রবেশ করার দরজা খুলে দিয়েছে।
অন্য দুনিয়ার দরজা খুলে দেওয়ার কারনে ঐ দরজা দিয়ে ঐ দুনিয়ার প্রাণী রা এ দুনিয়ায় প্রবেশ করেছে। ইহুদি মহিলা তাকে মেরে ফেলে শয়তানের কাছে উৎসর্গ করে।
ইহুদি মহিলা জ্বালাময়ী ভাষন দিয়ে সব দোষ দেয় ডেভিড ও তার সহযোগীদের। ডেবিড ও তার সহযোগীরা খুব শীঘ্রই বুঝে যাই যে এই ইহুদি মহিলা শীঘ্রই সবাইকে তাঁর পক্ষে নিয়ে নেবে।
ডেভিড সিদ্ধান্ত নেয় যে ভোরে তারা খাবার নিয়ে গাড়িতে করে বের হয়ে যাবে। ভোরে তারা ঐ ইহুদি মহিলার সামনে ধরা পরে যায়। হটাৎ ঐ ইহুদি মহিলা বলে শয়তানের কাছে ডেভিডের ছেলেকে বলি দিতে হবে।
আরো বলে ডেভিডের সবাইকে মেরে ফেলতে। ইহুদি মহিলার জ্বালাময়ী ভাষন শুনে সুপার শপের সবাই যেই ডেভিড ও তার সহযোগীদের কে মারতে যাবে।
তখনই ডেভিডের এক সহযোগী ঐ ইহুদি মহিলার মাথা গুলে করে মেরে ফেলে। এ সুযোগে ডেভিড ও তার সহযোগীরা বাইরে কুয়াশার মধ্যে বেরিয়ে ডেভিডের গারীর কাছে যেতে লাগে।
যাওয়ার সময় ডেভিডের সহযোগীদের দানব ও ভয়ংকর পোকামাকড় গুলো একে একে সবাইকে মেরে ফেলতে থাকে। শেষ পযন্ত ডেভিড তার ছেলে, এক মেয়েকে, এক বৃদ্ধা ও এক বৃদ্ধ কে নিয়ে গাড়ী নিয়ে রওনা দেয়।
গাড়ি যেতে যেতে পথে ডেভিড তার স্ত্রী কপ দেখতে পায়। দানবেরা তাকে বিসাক্ত জাল দিয়ে মেরে ফেলে রাখছে। গাড়ী নিয়ে চলতে চলতে ডেভিডের গাড়ির তেল শেষ হয়ে যায়।
তখন ডেভিড ও তার সহযোগীরা বুঝতে পারে তাদের এ দানব থেকে পালানোর সব পথ শেষ। ডেভিড ও তার সহযোগী রা কি করবে বুঝতে পারে। কেননা তখন ডেভিডের হাতে ছিলো একটা সর্ট গান।
ডেভিড বন্ধুকে চারটি গুলি দেখতে পায়। কিন্তু তখনও তারা পাঁচজন পর্যন্ত গাড়িতে ছিলো। ডেবিট, তার ছেলে, এক মহিলা এবং এক বৃদ্ধ ও এক বৃদ্ধা।
ডেবিট তখন সিদ্ধান্ত নেয় যে সে নিজে দানবদের কাছে গিয়ে সুইসাইড করবপ অন্যদেরকে গুলি করে মেরে ফেলবে
যেই ভাবা সেই কাজ। ডেভিড পর পর চারটি গুলি করে তাদের চারজনকে মেরে ফেলে।
প্রথম তার একমাত্র আদরের ছোট্ট ছেলেকে। তারপরে মহিলাকে, তারপরে বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা কে গুলি করে মেরে ফেলে।
বাবার হাতে আদরের একমাত্র ছেলে কে গুলি করে মারা কতটা কষ্টকর বুঝা যায় ডেভিড কে দেখলে। সবশেষে ডেভিড নিজেকে উৎসর্গ করে দানবের কাছে।
ঠিক তখনই ডেভিড খেয়াল করে তার পিছন থেকে ভয়ংকর সেই দানব গুলো আসছে। ডেবিড ভয়ে, কষ্টে, আতঙ্কে, দুঃখে পিছনে ফিরে তাকায়।
ডেভিড পিছনে ফিরে দেখতে পায় বিশাল সেনাবাহিনীর বহর সব দানব গুলোকে মেরে ফেলেছে। সেনাবাহিনীরা দ্যা হিস্ট (কুয়াশা) দুর করে আবার আগের দুনিয়ায় ফিয়ে এসেছে।
ডেভিড দেখতে পায় তার চোখের সামনে দিয়ে সেনাবাহিনীরা বাচ্চা, মহিলা-পুরুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্বাদের কে উদ্ধার করেছে। ডেভিড চিৎকার করতে থাকে সে তার ছেলেকে এবং তার সাথে থাকা তিনজন সহযোগী কে মেরে ফেলেছে।
তাদের শেষ পযন্ত কেন বাঁচাতে পারলো না। এভাবেই শেষ হয় বাবার হাতে দানবের সাথে লড়াই করে জিতে আসা ছেলের মৃত্যু। সেই মৃত্যু ও হয় একমাত্র বাবার হাতে।
এভাবে কঠিন ও রিদয় বিদারক অসমাপ্তির মাধ্যমে The Hist কুয়াশা ছবির গল্পটি শেষ হয়। যার শেষটা ছিল দেখার মতো চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে যাওয়ার মতো ছিল কুয়াশা মুভি।
কুয়াসা মুভির শেষ দৃশ্য দেখে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যার চোখ দিয়ে জল না আসবে। অসমাপ্ত এক দৃশ্য দিয়ে শেষ হয় দ্যা হিষ্ট বা কুয়াশা মুভির গল্পটি।
দ্য হিস্ট মুভির গল্পটির লেখক ছিলেন বিখ্যাত শশাঙ্ক রিডেম্পশন মুভির লেখক স্টিফেন কিং।
নামঃ দ্যা হিষ্ট (কুয়াশা)
মুক্তিঃ ২০০৭
ধরনঃ সাইন্স ফিকশন, হরর, থ্রিলার
লেখকঃ স্টিফেন কিং.
1 মন্তব্যসমূহ